অনলাইন ডেস্কঃ
ঈশ্বরদী শহরে দুইটি বাড়ি ও তিনটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরিফ তমালসহ ১১জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তমাল শরিফ ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফের ছেলে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে মন্ত্রীর শহরের বাড়ি থেকে তমালকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারের বাড়িতে পুলিশ যেয়ে তাকে পায়নি। পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। পাবনার পুলিশ সুপার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতদের রাতেই পাবনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা হলেন- উপজেলা যুবলীগ সভাপতি শিরহান শরিফ তমাল, যুবলীগ কর্মী রূপক, জাহাঙ্গীর, জাফর ইকবাল, রনি, প্রিন্স ইসলাম, মাহবুব ইসলাম, সাবিরুল, মেহেদী হাসান, সামসুল ও মাসুম। তাদেরকে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।
দুপুরে ঈশ্বরদীতে যুবলীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে দুইটি বাড়ি ও তিনটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে পাবনায় আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে গেলে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকার সমর্থক আরিফকে একই কাজে যাওয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাসের কর্মীরা মারধর করে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক গ্রুপের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দুপুরে শহরের শহীদ আমিনপাড়ায় অবস্থিত যুবায়ের বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালায়। এই হামলায় যুবায়েরের মা আহত হন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে শহরের প্রধান সড়কে অবস্থিত ফুড জংসন ও লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ দুইটি দোকান পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর ক্রয়কৃত জায়গায় অবস্থিত। যুবায়ের এক সময় মিন্টুর নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। একই সমমনা আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ বিশ্বাসের পৌর সুপার মার্কেটে অবস্থিত দোকান ও কলেজ রোডে অবস্থিত তার বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসলেও এদের অনেকের মুখ রুমাল দিয়ে ঢাকা ছিল।বাড়িতে হামলার ঘটনায় যুবায়ের বিশ্বাসের বাবা আতিয়ার রহমান বাদী হয়ে যুবলীগ সভাপতি তমাল শরিফসহ ৩২ জনকে নামীয় এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১৫জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আবদুল হাই তালুকদার জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই অভিযানে মন্ত্রীপুত্রসহ ১১জনকে গ্রেফতার করা হয়।
(Visited ৫ times, ১ visits today)