গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা মুফতি হান্নানের (স্থানীয়ভাবে আবুদল হান্নান মুন্সী বলে যিনি পরিচিত) ফাঁসির রায় বুধবার (১২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে কার্যকর হছে। রায় কার্যকরের পর তার লাশ গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
পারিবারিক কবরস্থানে ইতোমধ্যে মুফতি হান্নানের জন্য কবর খোঁড়ার কাজও শেষ হয়েছে। তবে মুফতি হান্নানের লাশ দাফন নিয়ে তার নিজ এলাকায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, সাধারণ গ্রামবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার লাশ কোটালীপাড়ায় দাফনের ঘোর আপত্তি জানিয়েছে।
এখানে যাতে এই শীর্ষ জঙ্গি নেতার লাশ দাফন না হয় তার জন্য ইতোপূর্বে কোটালীপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ।
এদিকে মুফতি হান্নানের ছোট ভাই মতিয়ার মুন্সী জানিয়েছেন, কারা কর্তৃপক্ষের চিঠি অনুযায়ী পরিবারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বড় ভাই আলিউজ্জামান মুন্সী, স্ত্রী রুমা বেগম এবং বড় মেয়ে নিশি খানম গতকাল মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) রাতেই কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। বুধবার সকালে তারা দেখা করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।
মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর আদালত সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।