হলিউড সিনেমায় নারী-পুরুষ সম্পর্কের বিষয়ে যেসব চিত্র তুলে ধরা হয় তার বেশিরভাগেরই বাস্তব জীবনের সঙ্গে কোনো মিল নেই। প্রায়ই হলিউড সিনেমায় সম্পর্কের সত্যিকার বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয় না।
দেখে নেওয়া যাক সেইসব ভুল ধারণা-
সম্পর্ক সবসময়ই নিখুঁত হয় (টাইটানিক)
হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা টাইটানিকের মাধ্যমে মানুষের মনে নারী-পুরুষের সম্পর্ক বিষয়ে একটি কল্পকাহিনী গেড়ে বসেছে যে একে নিখুঁত হতে হবে। কিন্তু বাস্তব হলো নারী-পুরুষের সম্পর্ক যদি সবসময়ই নিখুঁত হত তাহলে কখনোই বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটতো না। সুতরাং নিখুঁত সম্পর্ক বলে কিছু নেই। বরং বড়জোর যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক বলে কিছু একটা থাকতে পারে।
ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার জন্য চেহারা বদলাতে হবে (গ্রিজ, সি ইজ অল দ্যাট)
চেহারা বদলে ফেলার মাধ্যমে আপনার জন্য ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া সহজ নাও হতে পারে। আপনি যদি নিজের প্রতি আত্মসম্মানবোধ বাড়াতে বা নিজেকে আরো মূল্যবান ভাবতে তা করে থাকেন তাহলে তা করুন। আর নয়তো নয়। কেননা এর মাধ্যমে আপনি মূলত নিজের ব্যাপারে নিজের অনুভূতির জন্য সম্পূর্ণতই অন্য কারো ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়ার ফলে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, আর সুখি দম্পতিরা ঝগড়া করেন না (নটিং হিল)
সুখি দম্পতিরা তর্ক-বিতর্ক করেন কারণ তারা পরস্পরের সঙ্গে এর মাধ্যমেই যোগাযোগ ও বোঝাপড়া স্থাপন করেন। তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া বিবাদ তাদের জন্য এক ধরনের যোগযোগ। আপনারা ঝগড়া করছেন কিনা তা গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং আপনারা কীভাবে ঝগড়া করছেন সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্ক মজবুত করতে কোনো কাজ করা লাগে না (ডিজনির তৈরি প্রতিটি সিনেমা)
ভালোবাসা শব্দটি একটি ক্রিয়াবাচক শব্দ। এটি একটি কর্মমূলক শব্দ। অথচ একথাটিই আমরা ভুলে যাই। ভালোবাসা এমন কোনো বীজ নয় যা মাটিতে পুঁতে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই গজিয়ে উঠবে। আপনাকে এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে একত্রে বসবাস করতে গেলে দুজনের ভিন্নতাগুলোর মধ্যেই ঐক্য স্থাপন করতে হয়, সন্তান লালন-পালনের দায়-দায়িত্ব নিতে হয়, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হয়। আর তা খুব সহজ নয়। তার মানে এই নয় যে আপনি সম্পর্কে জড়াবেন না। কিন্তু সিনেমায় শুধু প্রেম আর প্রেমই দেখানো হয়। যেনবা যুগলদের বাস্তব জীবনে কোনো টানাপোড়েন নেই।
ভালোবাসা আনন্দদায়ক শুধু যখন আপনি ২০/৩০ এর কোঠায় থাকে (অল অফ দেম অ্যাপার্ট ফ্রম সামথিং’স গোটা গিভ)
কোপনতা এবং পাগল প্রেম চিরস্থায়ী হয় না। তবে অনেক সময় এর জায়গায় আরো গভীর এবং আরো সচেতন ভালোবাসা গড়ে ওঠে। যে সম্পর্ক বছরের পর ধরে টিকে থাকে এবং নানা চড়াই-উতরাই পার করে আসে তা খুবই উপভোগ্য হতে পারে। কেননা এর মধ্য দিয়ে আপনারা পরস্পরকে আরো ভালোভাবে জানতে বা বুঝতে পারেন। এবং অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আসেন। আর এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি যে কোনো বয়সেই একটু চেষ্টা করলে ভালোবাসা খুঁজে পেতে পারেন। আর সবকিছুকেই আনন্দদায়ক এবং উপভোগ্য করে তোলাটাও পুরোপুরি সম্ভব। শুধু তরুণ বয়সেই নয় বরং যে কোনো সময়ই ভালোবাসা ঘটতে পারে।
যৌনতা সবসময়ই অভূতপূর্ব এবং তীব্র আবেগপূর্ণ হবে (ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিট)
যৌনতা সবসময়ই বা বেশিরভাগ সময়ই অভূতর্পূর্ব হতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনাই বেশি তা সম্পর্কের উত্থান-পতনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পরিবর্তিতও হবে। যৌনতাও একধরনের যোগাযোগ মাধ্যম। সম্পর্ক যদি ভালো হয় তাহলে তা যৌন জীবনেও প্রতিফলিত হবে। কিন্তু সন্তান, চাকরি এবং চাপ ও অসুস্থতাও আপনার যৌন জীবনে প্রভাব ফেলবে। কেননা যৌন জীবনকে বাকী আর সবকিছু থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়। যৌনতাও সামগ্রিক সম্পর্কেরই একটি অংশ। কোনো দম্পতি যদি তাদের যৌন জীবন নিয়ে সমস্যায় ভোগার কথা বলেন তাহলে তাদেরকে প্রথমেই তাদের সম্পর্কের বাস্তব অবস্থা কী তা পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। এই কারণেই কোনো দম্পতি যদি তাদের যৌন জীবন নিয়ে অসুখি হন তাহলে তাদেরকে তাদের সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।