বৃহস্পতিবার , ২৬ জানুয়ারি ২০১৭ | ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. Featured
  2. অন্যান্য খেলার সংবাদ
  3. অন্যান্য ধর্ম
  4. অপরাদ
  5. অর্থনীতি
  6. অলটাইম নিউজ লেটার
  7. আইটি টেক
  8. আইন – আদালত
  9. আইন শৃংখলা বাহিনী
  10. আন্তর্জাতিক
  11. আবহাওয়া বার্তা
  12. ইসলাম
  13. উদ্যোগ এবং পরিবর্তন
  14. ওয়েবসাইট
  15. কবিতা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতারণা করেছেন-প্রধানমন্ত্রী

প্রতিবেদক
alltimeBDnews24
জানুয়ারি ২৬, ২০১৭ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রামীণ ফোনের লভ্যাংশের শতকরা ৩০ ভাগ গ্রামীণ ব্যাংককে না দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতারণা করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘গ্রামীণ ফোনের যখন অনুমতি দেয়া হয়, তখন শর্ত ছিলো লভ্যাংশের ৩০ ভাগ গ্রামীণ ব্যাংককে দেয়া হবে। কিন্তু তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো টাকাই রাখেননি। লভ্যাংশের শতকরা ৩০ ভাগ গ্রামীণ ব্যাংককে না দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতারণা করেছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সদস্য এ কে এম মাঈদুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন। সংবাদ বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ফোনের শেয়ার বিক্রি করে অধিকাংশ নিজের সম্পত্তি করে নিয়েছেন। আবার উনি নিজেও কর দেন না। তার ফিক্স ডিপোজিটে প্রচুর টাকা রয়েছে। মামলা করে দিয়েছেন তাই কর দিতে হয় না। তার এই টাকা কোথা থেকে এসেছে সেই হিসাবও তিনি দিতে পারেননি।’

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ নিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ দিয়ে মানুষ সর্বশান্ত হয়েছেন। ব্যাংকের আইন অনুযায়ী কেউ ৬০ বছর বয়সের বেশি হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে থাকতে পারেন না। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৭০ পেরিয়ে গেলেও এই পদ আঁকড়ে ধরে থাকেন। তাকে ওই পদ ছেড়ে অন্য কোনো সম্মানজনক পদে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি আদালতে মামলা করে দেন। আইন তার পক্ষে না থাকায় তিনি মামলায় হেরে যান। মামলায় হেরে তিনি আমার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে নানা প্রচার অপপ্রচার চালাতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনকে দিয়ে পর্যন্ত আমাকে ফোন করান। শেষ পর্যন্ত হিলারী ক্লিনটনসহ অন্যান্যরা ষড়যন্ত্র করে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থ ফেরত নেয়া হয়। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। যেখানে এক পয়সাও ছাড় হয় নাই, সেখানে বলা হলো দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘রাজনীতি মানুষের জন্য করি। কোনো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকা সরিয়ে নিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ার কোনো ইচ্ছাই নেই। তিনি (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) যে আমার বিরুদ্ধে লবিং করলেন, যখন তিনি আমার কাছ থেকে গ্রামীণ ফোনের অনুমোদন নিয়েছিলেন, তখন কি আমাকে এক কাপ চাও খাইয়েছেন? উল্টো চা খাইয়ে ব্যবসা দিয়েছিলাম। আমরা সেই মানসিকতার লোক।’

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য। পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক নিজে থেকে অর্থায়নের আগ্রহ দেখায়। কিন্তু সেখানে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে আমার নিজের বিরুদ্ধে, আমার ছেলে-মেয়ে, বোন, বোনের ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধেসহ তদন্তের নামে নাজেহাল করা হয়েছে। কিন্তু তারা দুর্নীতির কোনো সূত্র বের করতে পারেনি। এরপর থেকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেই। এখন এই কাজ এগিয়ে চলছে।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমানে দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বলতে কিছু নেই।আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অতীতে খুব প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখেছি আমলা বলতে যাদের বোঝানো হয় তারা সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।’

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমলারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। তাদের আন্তরিকতার ফলেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। সরকারের কাজ হচ্ছে তাদের বিভিন্ন কাজে উদ্বুদ্ধ করা।’

সুশাসন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “সুশাসন নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একের পর এক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর যেভাবে সাফল্যের সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে এটা সম্ভব হতো না।”

তিনি বলেছেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে ৮ বছর পর্যন্ত নানা ঝড়ঝাপটার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অগ্নি-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ খুনসহ নানা ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অগ্নি-সন্ত্রাসসহ সব ধরনের অপকর্মের চেষ্টা যারা করেছে বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত জোটের সকল অপকর্মকে দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করে দেশের অথনৈতিক উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখা হয়েছে। দেশে সুশাসন ছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৯৪ থেকে ৯৬ ভাগ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতেই প্রমাণিত হয় দেশে সুশাসন রয়েছে।’

(Visited ৪ times, ১ visits today)

সর্বশেষ - অর্থনীতি