কলামিস্টঃ শামীম হোসেন জয়।
:::::::::::::::::::::::::::::
যদি একটু পিছন থেকে গুরে আসি সব কিছুই যেনো পরিকল্পিত। ধ্বংশ দিয়েই যার যাত্রা শুরু এবং ধ্বংশের জন্যই যার জন্ম। আলফ্রেদ নোবেল ২১ অক্টোবর ১৮৩৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে একটি প্রকৌশল পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি একাধারে রসায়নবিদ , প্রকৌশলী ও একজন উদ্ভাবক ছিলেন। ১৮৯৪ সালে তিনি একটি বফর লোহা ও ইস্পাত কারখানা ক্রয় করেন, যা পরবর্তীতে একটি অন্যতম অস্ত্র তৈরির কারখানায় পরিনত করেন। তিনি ব্যালিস্টিক উদ্ভাবন করেন, যা সারা বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াবিহীন সামরিক বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর ৩৫৫ টি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি জীবদ্দশায় প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য ছিল ডিনামাইট । শিল্পপতি ইমানুয়েল নোবেল ও মা অ্যানড্রিয়েটি নোবেলের ৩য় সন্তান আলফ্রেড বার্নার্ড নোবেল। তার অপর দুই ভাই হলো রবার্ট নোবেল ও লুডিগ নোবেল। আলফ্রেড নোবেল ছিলেন তৃতীয় ও সর্বশেষ ভাই। তিনি ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অস্ত্রনির্মান প্রতিষ্ঠানের মালিক। এতো বিশাল সংখ্যক আবিষ্কার ও অস্ত্র ব্যবসা করে প্রচুর টাকা রোজগার করেন সুইডেনে জন্ম নেওয়া এই বিজ্ঞানী। সেই টাকা দিয়েই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক পুরষ্কার ‘নোবেল পুরষ্কার’।পুরস্কার প্রতিষ্ঠার পিছনের কাহিনীঃ
নোবেল পুরষ্কার প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্পটা বেশ মজার। আলফ্রেড নোবেলের অধিকাংশ আবিষ্কারই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র।ডিনামাইট বা অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র মানুষের ধ্বংসাত্বক কাজে ব্যবহার হয় । সে কারনে অনেক নিন্দা জোটে আলফ্রেড নোবেলের কপালে। ১৮৮৮ সালের মার্চে আলফ্রেডের বড়ভাই লুডভিগ ফ্রান্সে ঘুরতে গিয়ে ক্যানসিসে মারা যান।
লুডভিগ ছিলেন তুখোড় একজন প্রকৌশলী, ভালো ব্যবসায়ী ও অসাধারন মানবিক। এক ফ্রেঞ্চ পত্রিকা ভুলে ধরে নেয় আলফ্রেড নোবেলই মারা গেছেন। সেই পত্রিকা তখন আলফ্রেডের মৃত্যুর সংবাদ ছাপে। অথচ আলফ্রেড তখনো জীবিত। সেখানে তারা আলফ্রেডেকে বর্ণনা করে ‘মার্চেন্ট অব ডেথ বা মৃত্যুর সওদাগর’ হিসাবে, যার শিরোনামে লিখেছিলো “The merchand of death is dead”। আলফ্রেড মানুষ হত্যার বিভিন্ন অস্ত্র তৈরি করে প্রচুর টাকা উপার্জন করেছেন, কিন্তু সেই টাকা পুরো মানব জাতির কল্যানের কোনো কাজে ব্যয় করেননি বলে তার প্রচন্ড নিন্দা অর্জন করে এমনি তার বৈজ্ঞানিক আবিস্কার উদ্ভাবনের কথা উল্লেখও করেনি। পত্রিকার এই লেখাটি আলফ্রেড নোবেল নিজে পড়েন। নিজেই নিজের মৃত্যু সংবাদ পাঠ করলেন । তিনিও উপলদ্ধি করলেন তিনি নিজেকে একজন “মৃত্যু ব্যবসায়ী”। মানুষের মনে তার সম্পর্কে সম্মানজনক ইতিবাচক পরিচয় রেখেই মরতে হবে। কী করা যায়? সে ভাবনায় পেয়ে বসে। ১৮৯৫ সালে এসে এ প্রশ্নের সমাধান তিনি পান। অনেক চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেন তাঁর উপার্জিত অর্থ মানব কল্যানের কাজে ব্যয় করবেন। এরপর ১৮৯৫ সালের নভেম্বর মাসে আলফ্রেড নোবেল তার মোট উপার্জনের ৯৪% (৩ কোটি সুইডিশ ক্রোনার) দিয়ে তার উইলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন নোবেল পুরষ্কার।
এই বিপুল অর্থ দিয়েই শুরু হয় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, সাহিত্য ও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান। ১৯৬৮ যোগ হয় অর্থনীতিতে। ডিনামাইট উদ্ভাবন করে যে পুরুস্কার পেয়ে ছিলেন সেটি নোবেল কমিটি করে উইল করে দিয়ে যান। প্রতিবছর যেনো সেটা দিয়ে ভাল কাজের পুরুস্কার দেয়া হয়। কিন্তু এর আরালে ছিলো বড় ধরনের চক্রান্ত।ডিনামাইড দিয়ে যেমন মানুষ হত্যা হয়। তেমনি তার উইলের অর্থ দিয়ে ধ্বংকারিদের পুরুস্কার দেয়া হয়। যার জ্বলন্ত প্রমান সূচি ও ডঃ ইউনুস। ১৯০১ সালে হয়তো মানুষ তা বুঝতে পারেনি। কিন্তু আজ তা হারে হারে বুঝতে শিখেছে। হয়তো নোবেল বিজয়ীদের তালিকা ধরে তাদের জীবন ইতিহাস খুজলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। ধ্বশের টাকা দিয়ে কখনো শান্তি কেনা যায় না।